ময়মনসিংহবাসী আজ বিস্মিত,বিব্রত,মর্মাহত ও কিছুটা বিরক্তও-‘জসিম’

প্রকাশিতঃ 5:02 am | September 13, 2018 | ৩,২৭৫

ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, মোঃ জসিম উদ্দিন-
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে করা একটি স্ট্যাটাসে- বর্তমান ময়মনসিংহের আওয়ামী পরিমণ্ডলের রাজনীতিতে যে নোংরামি চলমান আছে সে প্রসঙ্গে যা মন্তব্য করেছেন তা নিন্মে হুবহু তুলে ধরা হলঃ
 
ময়মনসিংহবাসী আজ বিস্মিত,বিব্রত,মর্মাহত ও কিছুটা বিরক্তও।
 
মহান মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ ৪৭বছর পর ঐতিহ্যবাহী কৃষ্ণচূড়া চত্ত্বরে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে কটূক্তি করার প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশের মঞ্চে দাঁড়িয়ে কিছু কথা বলতে চেয়েছিলাম।
 
ময়মনসিংহের মাটিকে যারা কলঙ্কিত করেছে,যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এর মদদ দিয়েছেন এবং দিয়ে চলছেন তাদের জন্য জাতি আজ লজ্জিত।
এ লজ্জা প্রতিটি শহীদ মুক্তিযোদ্ধার,এ লজ্জা প্রতিটি পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধার,এ লজ্জা স্বাধীন বাংলার প্রতিটি জনতার।
 
আমার ভাবতে অবাক লাগে স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একমাত্র দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের শাসনামলে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে কটূক্তি করার দুঃসাহস ওরা পায় কিভাবে???
 
সেইসাথে বিস্ময় জাগে মনে ঐ কটূক্তিকারী মহিলা এতবড় অপকর্ম করার পর ময়মনসিংহের আওয়ামীলীগের দায়িত্বশীল নীতি-নির্ধারকদের পাশে একই মঞ্চে অত্যন্ত সাবলীলভাবে বসার সুযোগ পায় কিভাবে??
 
তবে কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী আওয়ামীলীগের ভেতর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের এমন কোন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হচ্ছে??
নাকি ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে গুরুত্বহীন বানানোর শিক্ষা দিচ্ছেন।
মুক্তিযুদ্ধকে “once upon a time” বলে প্রতিষ্ঠিত করার নীলনকশা করছেন??
জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদেরকে এ বাংলার মাটিতে হেয় প্রতিপন্ন করার সুপরিকল্পিত চক্রান্ত করছেন??
 
যেখানে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যেকোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারক জননেত্রী শেখ হাসিনা আপনি আছেন তারপরও কেন সংগঠনের শান্তিপূর্ণ নেতৃত্বের প্রতিযোগিতার দোহাই দিয়ে এ জঘন্য নোংরামী খেলা??
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে কেন ক্ষত-বিক্ষত করা??
 
আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমানকে সবচেয়ে ভাল ও সঠিকভাবে চেনেন,জানেন,বোঝেন যিনি,তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনা,আর কেউ নন।
 
বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের একমাত্র আশ্রয়স্থল বঙ্গবন্ধু কন্যা মমতাময়ী জননেত্রী শেখ হাসিনা।
আপনাকে ছাড়া আমরা কিছুই বুঝিনা।
 
বাংলাদেশ আওয়ামী পরিবারের একজন নগন্য কর্মী হিসেবে বলতে চাই আমরা গ্রুপিং বুঝিনা,আমরা কোন্দল বুঝিনা,আমরা সূক্ষ্ম রাজনীতি বুঝিনা;
আমরা শুধু ভাল/মন্দ বুঝি।
গণতন্ত্রের মানসকন্যা মাদার অফ হিউমিনিটি আপনার কাছে একজন দায়িত্বশীল কর্মী হিসেবে অবগত করতে চাই যুগ যুগ ধরে ময়মনসিংহবাসীর সাথে আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের কতটা গভীর ও মজবুত সম্পর্ক তা কল্পনাতীত।অত্যন্ত সাদামাটা জীবন যাপনকারী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ময়মনসিংহ মাটি ও মানুষের নেতা হিসেবে দল মত নির্বিশেষে সকলের কাছে খুব প্রিয় ও গ্রহনযোগ্য একজন মানুষ।
 
আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হৃদয় দিয়ে ভালবেসে এদেশকে স্বাধীন করতে ৭১’এর মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
 
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার মধ্য দিয়ে
বাংলাদেশে স্বাধীনতাবিরোধীরা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে বঙ্গবন্ধুর নামটি বাংলাদেশ থেকে চিরতরে মুছে ফেলার অপচেষ্টার বীজ রোপন করেছিল সেই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী আপোষহীন গুটিকয়েক কণ্ঠস্বরের মাঝে একটি কণ্ঠস্বর ছিল বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।
 
জিয়া মন্ত্রীত্ব দিয়ে যে আপোষহীন প্রতিবাদী মানুষটিকে বশে নেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিলেন তিনি সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমান;যিনি একইসাথে মানুষ গড়ার কারখানা চালিয়েছেন,ছিলেন মানুষ গড়ার কারিগর।সেইসাথে ৫৬ বছর ধরে তিনি বঙ্গবন্ধু,বঙ্গবন্ধু কন্যা ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ছাড়া কিছু দেখেননি,শোনেননি ও বোঝেননি তিনি অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।
 
বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দায়িত্বগ্রহন করার পর জননেত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য যিনি ছুটে বেরিয়েছেন ময়মনসিংহের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে।
বিএনপি-জামাতের শাসনামলে সীমাহীন নির্যাতন,মিথ্যা মামলায় বার বার কারাভোগ করেও যিনি আদর্শের প্রশ্নে একবিন্দু আপোষ করেনি,এক পা পিছপা হননি তিনি অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।
 
যখন ১/১১ এ দলের চরম দুঃসময়ে black politics-এর শিকার হয়ে প্রিয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কারাবন্দী ছিলেন,তখন অনিবার্য কারণবশত তৎকালিন দায়িত্বশীল আওয়ামীলীগ নেতারা নেত্রীর গ্রেফতারের প্রতিবাদ করার সাহস দেখাননি,কালো রাজনীতির কাছে আত্মসমর্পন করে নিয়েছিল অনেকেই।
ঠিক সেই চরম দুঃসময়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার ব্যাপারে বিন্দুমাত্র আপোষ না করার মত হাতেগোনা কয়েকজন সিংহপুরুষের মাঝে একজন ছিলেন অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।
যিনি জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিটি নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করার যোগ্যতা দেখিয়েছেন তিনিই ময়মনসিংহবাসীর প্রিয় “মতি ভাই”।
 
ময়মনসিংহবাসীর মাটি ও মানুষের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমানকে নিয়ে কিছু বলার মত সাহস,বিদ্যা ও যোগ্যতা কিছুই আমার মত অল্পবয়সী আওয়ামীলীগ কর্মীর নেই।
 
“আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমানক স্যারকে নিয়ে উপরোক্ত সকল বাক্যই ইতিহাস থেকে নেয়া।”
আর ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যায়না।
 
আমার ক্ষুদ্র শিক্ষায় ময়মনসিংহের আওয়ামী রাজনীতিতে যে নোংরামি চলমান আছে তার একমাত্র কারণ অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের অকল্পনীয় জনপ্রিয়তা,তার আদর্শের প্রশ্নে সদা আপোষহীনতা এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের বৃহৎ স্বার্থে এই নোংরামিগুলোর উপযুক্ত দাঁতভাঙ্গা জবাব না দিয়ে নীরব থাকা।
 
এই নোংরামির সাথে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত তারা একটি বিষয় কোনভাবেই বুঝতে চায়না নেতা হতে হলে জনগনের ভালবাসার মানুষ হতে হয়।
 
নেতা হওয়ার দিবাস্বপ্নে বিভোর ব্যক্তিরা জানেনা নিজে নিজে স্বপ্ন দেখে জজ-ব্যারিস্টার বা ডাক্তার-ইন্জিনিয়ার হওয়া যায় কিন্তু নেতা হওয়া যায়না।
জনগন যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে,যাকে ভালবাসে,যাকে বিশ্বাস করে তিনিই লক্ষ লক্ষ মানুষের নেতা হন।
 
“পদ-পদবী আর নেতা এক জিনিস নয়।”
 
সংকীর্নতা পরিহার করুন,মিথ্যা বলা বন্ধ করুন,মানুষকে ভালবাসার অভ্যাস করুন,নতুন প্রজন্মকে সততার পথ দেখান এবং গ্রুপ পলিটিক্সের নামে প্রতিপক্ষকে (আপনাদের তৈরি) জুলুম নির্যাতন বন্ধ করুন।তাহলে হয়তো আপনাদের জনপ্রিয় নেতা হওয়ার প্রত্যাশা পূরণ হতে পারে।
 
“মনে রাখবেন সীমা লংঘনকারীদের আল্লাহ তাআলাও পছন্দ করেননা।”
 
আমরা বিশ্বাস করি সদা আপোষহীন আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের বিষয়ে ময়মনসিংহবাসী একবিন্দুও আপোষ করেনি আর ভবিষ্যতেও করবেনা।
 
সফল রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আকুল আবেদন থাকবে আওয়ামীগের ঘাঁটি হিসেবে খ্যাতনামা ময়মনসিংহের রাজনীতির সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং জনপ্রিয়তার বিচারে ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে আপনার সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
 
ভাল থাকুক জননেত্রী শেখ হাসিনা;
ভাল থাকুক জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা;
ভাল থাকুক বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রতিটি নিবেদিত প্রাণ।
 
গড়ে উঠুক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা।
 
প্রত্যাশা পূরণ হোক বাংলার ১৬ কোটি জনতার।
 
“জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু;
জয় হোক শেখ হাসিনার সকল পদক্ষেপের।”