সরকার সব দাবি মানলেও আন্দোলন কেন দীর্ঘ হচ্ছে?

প্রকাশিতঃ 10:33 am | August 04, 2018 | ১৪১

সবাই শুধু জিম্মি করে সরকারকে, অথচ সব দাবি দাওয়া মেনে নেওয়ার পরেও আমরা কোনো আন্দোলনকে দীর্ঘায়ত করি।

শাহবাগ গণজাগরণ আন্দোলন: মনে আছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা শাহবাগের সেই গণজাগরণের কথা? আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকার আইন পরিবর্তন করেছিল। তখনই আমাদের ঘরে ফিরে যাওয়ার দরকার ছিল, কিন্তু আমরা ঘরে ফিরে যাইনি। কেউ কেউ নিজেরে আরও বড় নেতা বানানোর খায়েশ থেকে এই গণজাগরণটাকে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘায়ত করে বিতর্কিত করে ফেলেছিল। ফলে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল আর করুণভাবে ঘরে ফিরতে হয়েছিল শেষপর্যন্ত রাস্তায় থাকা গোটা কয়েকজনকে।

কোটা আন্দোলন: শুরুতে রাস্তায় অনেকেই ছিলেন। ছাত্রলীগের অনেকরেই দেখেছি নেতৃত্ব ও সমর্থন দিতে। আন্দোলনকারীদের দাবির প্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাথে সাথে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিষয়টা যাচাইবাছাই করার জন্য। আর সময় চেয়েছিলেন ৭ দিনের। কিন্তু সময় দেয়া হয়নি! জ্বালাও-পুড়াও করা হলো। ফলে একপর্যায়ে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তও নিতে হয়েছিল সরকারকে।

তারপরেও আন্দোলনকারীরা ঘরে ফিরে যায়নি। কারণ আন্দোলনের ২/৩ দিনের মধ্যে নেতৃত্ব চলে যায় চিহ্নিত শিবির ক্যাডারদের হাতে। ওরা আন্দোলনের নামে ভিসির বাসায় আগুন, ভাঙচুর, গাড়ি পুড়ানো সহ ঢাকা শহরে অরাজকতায় মেতে উঠেছিল।

তাই বাধ্য হয়ে সাধারণ ছাত্ররা মুখ ফিরিয়ে নেয় আন্দোলন থেকে, রাস্তায় থেকে যায় চিহ্নিত সরকারবিরোধীরা। যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে একের পর এক ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড করছিল। একপর্যায়ে সাধারণ মানুষের সহানুভূতিও আর থাকেনি। ফলে করুণভাবে হারিয়ে গেছে সেই কোটাবিরোধী আন্দোলন।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন: দুই শিক্ষার্থীর নির্মম মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী সহ আমরা ব্যথিত। পরিবহন সেক্টরের অরাজকতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ সহ সবার ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। ওরা রাস্তায় সন্ত্রাস করে, প্রতিযোগিতা করে মানুষ খুন করে। গাড়ির পারমিট নাই, ড্রাইভারের লাইসেন্স নাই, রাস্তায় লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি। পুলিশ ব্যবস্থা নিতে গেলেই ওরা পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়ে সরকার সহ সবাইকে জিম্মি করে রাখতো।

এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমরা যা পারিনি, পুলিশ যা পারেনি, তা পেরেছিল স্কুল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরা। প্রথম ২/৩ দিনের রাস্তায় অবস্থানে কী সুন্দর সারিবদ্ধভাবে গাড়ি একটার পর একটা যাচ্ছে।

আন্দোলনকারীদের দাবির প্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গ্রেপ্তার করা হয় গাড়ির চালককে। ঘাতক চালককে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে ঘাতক গাড়ি ‘জাবালে নূরের” সব গাড়ির পারমিট বাতিল করা হয়েছে। এমনকি ‘জাবালে নূরের’ মালিককেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মেনে নেয়া হয়েছে আন্দোলনকারীদের ৯ দফা দাবিও। পাশাপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লক্কড়ঝক্কড় গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। যেসব ড্রাইভারের লাইসেন্স নেই তাদেরও আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তারপরও আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা কেনো ক্লাসে ফিরে গেল না? এই আন্দোলনকে দীর্ঘায়ত করার কারণ কী?

ইতিমধ্যে আমরা দেখেছি আমাদের ছেলেমেয়েদের হাতে কি সব বিশ্রী প্ল্যাকার্ড। ওদের হাতে এসব কে ধরিয়ে দিয়েছে। গাড়িতে আগুন দেয়া হচ্ছে, গাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে। কারা এসবে ইন্ধন হচ্ছে?

আন্দোলন হওয়ার কথা গাড়ি শ্রমিক এবং মালিকদের বিরুদ্ধে। কিন্তু আন্দোলন এখন পুলিশের বিরুদ্ধে! কারা ছাত্রছাত্রীদের উসকিয়ে দিয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে?

তাহলে “দেশ ও জাতির জন্য ভালো” একটা আন্দোলনেও কি ঢুকে গেছে সরকারবিরোধী চক্র? যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

আমরা অতীতে দেখেছি একটা আন্দোলনকে অযথা দীর্ঘায়ত করলে কী হয়। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সেখানে ঢুকে যায় সরকারবিরোধীরা। অথচ আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের উচিৎ ছিল তাদের সবগুলো দাবি সরকার মেনে নেয়ার সাথে সাথে রাস্তা ছেড়ে ক্লাসে ফিরে যাওয়া। কিন্তু ফিরে না গিয়ে এই আন্দোলনকে বিতর্কিত করে তুলেছে বিশ্রী ভাষার সব প্ল্যাকার্ড, গাড়ি ভাঙচুর, গাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়ানোর কারণে। যে কারণে এবার পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা হরতাল ডাকছে অনির্দিষ্টকালের জন্য।

খারাপ লাগছে, “দেশ ও জাতির জন্য ভাল একটা আন্দোলন ও গণদাবীকে” খামখেয়ালীপনার জন্য নষ্ট করে দেয়া হলো।