ময়মনসিংহের তথ্য সন্ত্রাস রফিকের গ্রেফতার দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশিতঃ 4:00 pm | September 04, 2018 | ১৪৬

চত্বরে ময়মনসিংহের ভুক্তভুগি পরিবার ও সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে ঘন্টাব্যাপী এই মানব্বন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশ বক্তারা বলেন, তথ্য সন্ত্রাস খাইরুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের বিজ্ঞ সিনিয়র ম্যাজিষ্ট্রেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ঠিকাদার মো. হাসেম আলী বাদি হয়ে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু আসামীর বিরুদ্ধে গত ৫ আগস্ট বিজ্ঞ বিচারক গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন। যা বর্তমানে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় রয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, পরোয়ানা মাথায় নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি পলাতক খাইরুল আলম রফিককে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাই পলাতক খাইরুল আলম রফিককে প্রশাসন যেন দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করেন, সেই দাবি জানিয়েছেন ময়মনসিংহের ভুক্তভুগি পরিবার, সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক।

এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অপরাধ বার্তা ডটকমের জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মোঃ কামাল, সাপ্তাহিক ব্রহ্মপুত্রের নির্বাহী সম্পাদক ও শীর্ষ খবর ডটকমের জেলা প্রতিনিধি আনিসুর রহমান ফারুক, দি ডেইলী ট্রাইব্যুনাল ও ব্রেকিংনিউজ ডটকম ডটবিডির স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মাসুদ রানা, টাইম লাইনডটকম এর সাংবাদিক আল আমিন, ময়মনসিংহ প্রতিদিনডটকম এর রাসেল হোসেন, আলকিত সকালের জেলা প্রতিনিধি বদরুল আমীন, সিটি বার্তা ডটকমের সম্পাদক মো. মেরাজ উদ্দিন বাপ্পী, ময়মনসিংহ সমচারের নির্বাহী সম্পাদক সোহরাব উদ্দিন খান, দৈনিক আজকের খবরের স্টাফ রিপোর্টার হাবিবুর রহমান, দৈনিক আজকের বাংলাদেশের স্টাফ রিপোর্টার নেপাল ধর, ফটো সাংবাদিক ফখরুল আকন্দ, সাপ্তাহিক আমাদের ময়মনসিংহের সম্পাদক কামরুল হাসান, দৈনিক সকালের সময় প্রদীপ বিশ্বাস ও অর্ধশতাধিক ভুক্তভুগি পরিবারের সদস্যরা।

উল্লেখ্য, ময়মমসিংহে কথিত ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও দূর্নীতিবাজ খায়রুল আলম রফিক এক সময় সেনা সদস্য ছিলেন। ওই সময় এক সেনা অফিসারের বাসায় চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েন। তখন চুরি করার অপরাধে তাকে শাস্তি দিয়ে চাকুরীচূত্য করা হয়। সেখান থেকে শুরু হয় সকল অপকর্মের মূল কাহিনী। তার বিরুদ্ধে এমন একাধিক অভিযোগও রয়েছে। এই কথিত সাংবাদিক গ্রামের সহজ সরল মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে তার পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ্য লক্ষ্য টাকা। আর নগরীতে বেপরোয়া হয়ে চাঁদাবাজি করেই যাচ্ছে। এমন ঘটনায় জেলার বিভিন্ন থানায় অনেক ভুক্তভোগি পরিবার খায়রুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে একাধিক জিডিও করেছেন।

অন্যদিকে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করায় ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন থানায় কয়েকডর্জন মামলাও রয়েছে।
তার মধ্যে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ঠিকাদার হাসেম আলীর নিকট মোটা অংকের টাকা দাবি করে খায়রুল আলম রফিক। টাকা না দেয়ায় হাসেম আলীর অফিসে গিয়ে ভাংচুর ও তার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেন।

এছাড়াও সে তার ফেসবুক ওয়ালে হাসেম আলীর নামে অপপ্রচার করে পোস্ট দেয় । পরে ঠিকাদার হাসেম চাঁদা না দেওয়ায় অফিস ভাংচুর এবং মারধর করার অভিযোগে ময়মনসিংহের আদালতে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় রফিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে আদালত। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে খায়রুল আলম রফিককে এখনো আটক করতে পারেনি পুলিশ।

অভিযোগে আরও জানা যায়, রফিক নিজেকে সম্পাদক ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ময়মনসিংহের বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী, পুলিশ, রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন মহলে চাঁদাবাজি করে বেড়াচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে ।

এদিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আকরাম হোসেন ডিবিতে প্রথম যোগদান করার পর তার সাথে রফিকের ভাল সম্পর্ক গড়ে উঠে। যা সত্যতা দুইজনের মোবাইল ফোনের কললিস্ট চেক করলেই পাওয়া যাবে। পরবর্তিতে এই কথিত সাংবাদিক এসআই আকরামের নিটক একটি দামি মোবাইল ফোন ও মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। সেই মোবাইল ফোন কিনে দিতে আকরাম অনিহা জানিয়ে তাকে নগরীর নতুন বাজার এলাকার আড়ং শো রুম থেকে একটি দামি পাঞ্জাবী কিনে দেয়। কিন্তু এরপর চাঁদা দাবির টাকা না দেওয়ায় ওই পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে একাধিক বার অপপ্রচার চালিয়েছেন।