মরুর জাহাজ কোরবানির পশুর হাটে

প্রকাশিতঃ 2:41 pm | August 18, 2018 | ১৭

দরজায় কড়া নাড়ছে কোরবানির ঈদ। হাতে আছে আর মাত্র কয়েকদিন। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজধানীতে আসা শুরু করেছে কোরবানির পশু। পেশাগত কারণে সংবাদ সংগ্রহের কাজে গাবতলীতে কোরবানির পশুর হাটে প্রবেশ করতেই দেখি হাটের পশ্চিম পাশে বিশাল এক জটলা। দূর থেকেই দেখা যাচ্ছে কিছু মানুষ হাসি হাসি মুখে সেলফি তুলছে সেখানে।

কৌতুহল সামলাতে না পেড়ে আমিও সাবধানে হাটের গরু, ছাগল আর মানুষের ভিড় ঠেলে উপস্থিত হলাম সেখানে। সেখানে পৌঁছে যা দেখলাম তাতে অবাক না হয়ে পারলাম না। ক্যমেরাটা বের করে আমিও ফটাফট কয়েকটা ছবি তুলে ফেললাম।

যার সঙ্গে সেলফি তোলায় সবাই ব্যস্ত। সে বাংলাদেশের কোনো শোবিজের তারকা নয়, কিংবা নয় কোনো গায়ক বা গায়িকা। সবাই যাকে নিয়ে এত আগ্রহ দেখাচ্ছে সে হল মরুর জাহাজ নামে পরিচিত, যাকে আমরা উট নামে জানি। হাটে আরও অনেক পশু থাকলেও সকলের কৌতূহল এই উটকে ঘিরেই।

বিশাল দেহের এই উটটির উচ্চতা হবে প্রায় দশফুট। উটের সবচেয়ে বড় বিস্ময় হল পিটের উপর বড় আকারের উঁচু মাংসপিণ্ড যাকে কুজ বলে। কোরবানি ঈদ উপলক্ষে এই উটটিকে রাজস্থান থেকে আনা হয়েছে। কোরবানির ঈদে উটের চাহিদা থাকার কারণে ইদানীং খুবই সীমিত আকারে কেউ কেউ উটের খামারও শুরু করেছেন।

উট দেখতে আসা একজন দর্শনার্থী বলেন, ‘আমরাতো সব সময় গরু ছাগল দেখি, কিন্তু বাস্তবে উট আগে কোনো সময় দেখি নাই। তাই দেখতে আসছি, উটের দাম তো অনেক কোনদিন কিনতে পারবো না তাই দেখেই মনের আশা পূরণ করছি।

উটের মালিক সোহেল রানা অপু জানান, আমাদের দেশে কোরবানির পশু হিসাবে উটের চাহিদা বাড়ছে দিনে দিনে। যেকারণে কোরবানি উপলক্ষে আরব ও ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে নিয়ে আসা হয় উট।

উটটির দাম জানতে চাইলে অপু বলেন, ১৮ লাখ টাকা। কত দাম পেলে বিক্রি করবেন জানতে চাইলে বলেন, এখনো কয়েকদিন সময় আছে দেখি কত পাওয়া যায়। ইতিমধ্যে ১৪ লাখ টাকা দাম উঠেছে বলেও তিনি জানান।

বর্তমানে উচ্চবিত্ত লোকদের কোরবানিতে পছন্দের শীর্ষে আছে উটের চাহিদা। তাই উচ্চবিত্ত লোকদের টার্গেট করেই ব্যবসায়ীরা কোরবানির হাটে উট নিয়ে আসে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে উটের খামার গড়ে তুলতে পারলে উটের দাম অনেক কমে আসবে বলেও জানান উটের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিবর্গ।