নৌকায় ভোট দিলে কেউ বঞ্চিত হয় না: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ 12:00 am | July 29, 2018 |

নৌকা মার্কায় ভোট দিলে উন্নয়ন থেকে কেউ বঞ্চিত হয় না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

শনিবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর বাড্ডা নর্থ ইউলুপ উদ্বোধন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাষণকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছেন বলেই দেশ স্বাধীন হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর জাতির জনক যদি দশ বছরও বেঁচে থাকতেন তাহলে বাংলাদেশ উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত হতো। কিন্তু দুভার্গ্য আমরা জাতির জনককে অকালে হারিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতির জনকের স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ হবে সুইজারল্যান্ড অব দ্য ইস্ট। জাতির জনকের এই স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়ন করা আমার দায়িত্ব বলে মনে করি। আমার আর ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। আমি চাই, বাংলাদেশ ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হোক। বাংলাদেশে এখন আর ক্ষুধা নেই।’

‘নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছিলেন বলে আমি দুই মেয়াদে ক্ষমতায় এসে আপনাদের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। আশা করি, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে আপনারা জাতীয় নির্বাচনে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন। কেননা নৌকা মার্কায় ভোট দিলে কেউ বঞ্চিত হয় না।’

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে আট লেন মহাসড়কের কাজ শুরু করেছি। উত্তরা থেকে মতিঝিলে মেট্রোরেল চালু করা হবে। রেল কেবল মাটির নিচ দিয়ে যাবে না, এখন আকাশ দিয়েও যাবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসের জন্য আমরা ২০ বছরের কৌশল প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নের কাজ হাতে নিয়েছি।’

হাতিরঝিল প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই হাতিরঝিল ছিল দুর্গন্ধময় এলাকা, এখন সেটি হয়েছে রাজধানীবাসীর বিনোদনের জায়গা। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হাতিরঝিল প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ায় দুর্গন্ধময় এই এলাকা এখন সবুজের সমারোহে পরিণত হয়েছে। অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করায় আমি সেনাবাহিনী ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সমগ্র ঢাকায় রিং রোড নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। ঢাকার আশেপাশে ছোট ছোট শহর নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছি। এই ছোট ছোট শহরে সকল সুযোগ-সুবিধা থাকবে। যাতে ঢাকা শহরের মধ্যে মানুষদের বসবাস করার প্রয়োজন না হয়।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাতে এক ঘণ্টায় পৌঁছানো যায় এ জন্য দ্রুতগতি বা বুলেট ট্রেনের পরিকল্পনা আমরা হাতে নিয়েছি। এভাবে ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-দিনাজপুর, ঢাকা-বরিশালে দ্রুতগামী ট্রেনে যাতায়াতের সুযোগ আমরা তৈরি করব। যাতে মানুষ দিনের দিন ঢাকায় এসে প্রয়োজনীয় কাজ শেষে দিনের দিন ফিরে যেতে পারে।’

‘আমরা ঢাকার চারটি নদী ঘিরে নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা নিয়েছি। যে সব এলাকায় ছোট ছোট ব্রিজ আছে, ব্রিজগুলো দিয়ে নৌযান যেতে পারে না। আমরা সেই ছোট ছোট ব্রিজ ব্যবহার করে যাতে নৌ চলাচল করতে পারে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। এছাড়া ঢাকার খালগুলোকে নদীর সঙ্গে সংযোগ করে দেব। ফলে নদীতে পানির ধারণ ক্ষমতা বাড়বে’ বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘এখন যে পান্থপথ, ছিল সেটি এক সময় খাল ছিল। খালগুলো বন্ধ করে দিয়ে সেখানে কালভার্ট তৈরি করা হয়েছে। আমরা খালগুলোর ওপর দিয়ে এলিভেটেড রাস্তা করে দেব। শহরের মতো গ্রামের খাল-পুকুরও সংস্কার করবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। যাতে ঢাকার মতো গ্রামের মানুষকে সুন্দরভাবে বাঁচার ব্যবস্থা করা যায়। আমরা গ্রামগুলোকে শহরে পরিণত করব।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কেবল সড়ক বা নৌ যোগাযোগ উন্নত নয়, আমরা বিমান চলাচল ব্যবস্থাকেও উন্নত করব। সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে উন্নত করে আমরা আধুনিক বিমানবন্দরে পরিণত করব। যাতে করে সৈয়দপুর দিয়ে বর্ডার প্রদেশগুলোয় সহজে যাতায়াত করা যায়। এভাবে রাজশাহী, বরিশাল বিমানবন্দরকে উন্নত করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ হবে সুইজারল্যান্ড অব দ্য ইস্ট। এটি জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল। আমরা জাতির পিতার এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব। আমাদের লক্ষ্য দেশটাকে উন্নত করা। আজকে ইউলুপ উদ্বোধন করেছি। এই ইউলুপের মাধ্যমে রামপুরা, মগবাজার, মালিবাগ, বাড্ডা, গুলশান এলাকার যানজট কমে আসবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণকে শুধু এটুকু বলব সকলে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছিলেন। আমরা সরকার গঠন করেছি, জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ হবে। আমরা সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি।’

ধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার (২৮ জুলাই) বিকেলে হাতিরঝিল সমন্বিত প্রকল্পের বাড্ডা নর্থ ইউলুপ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পরই জনসাধারণের চলাচলের জন্য ইউলুপটি খুলে দেওয়া হয়।

২০১৫ সালের জুনের দিকে শুরু হয় বাড্ডা ইউলুপের কাজ। পরে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৮ সালে এসে ৪৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ মিটার প্রস্থের ইউলুপের কাজ শেষ হয়।

ইউলুপটি ব্যবহার করে হাতিরঝিল থেকে বের হয়ে সহজেই রামপুরা-বনশ্রী-মালিবাগের দিকে যাওয়া যাবে। একইভাবে এসব এলাকা থেকে যেকোনো যানবাহন নির্বিঘ্নে হাতিরঝিল দিয়ে কাওরান বাজার বা মগবাজারের দিকে যেতে পারবে।

হাতিরঝিল সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ও তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় নির্মিত করা হয়েছে বাড্ডা ইউলুপ। যার দৈর্ঘ্য ২১৫ মিটার আর প্রস্থ ৮-১২ মিটার।

ইউলুপ নির্মাণে সর্বমোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা। শুরুতে এর নির্মাণ ব্যয় ৪০ কোটি টাকা ধরা হয়।