১ কর্মীর ছুরিকাঘাতে ২ ছাত্রলীগ কর্মী আহত

প্রকাশিতঃ 9:34 pm | August 17, 2018 | ১৪

টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের এক কর্মীর ছুরিকাঘাতে দুই ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলে এ ঘটনা ঘটে।

আহত দুই ছাত্রলীগ কর্মী হলেন- দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী মোকাররম হোসেন ও সোহান রেজা। তারা দুজনই শাখা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ানের অনুসারী।

ছুরিকাঘাতকারী শিক্ষার্থী হলেন সরকার ও রাজনীতি বিভাগের আল রাজী। তিনি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানার অনুসারী।

তারা তিনজনই তৃতীয় বর্ষের (৪৫ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ও মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক ছাত্র।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, দুপুর দেড়টার দিকে হলের দুই তলার করিডোরে মোকাররম হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে আল রাজি। এতে মোকাররমের বাম হাতের তালু কেটে যায়। আল রাজী আবার আঘাত করতে গেলে মোকারমের সঙ্গে থাকা সোহান তাকে বাধা দেয়। পরে সোহানকেও ছুরিকাঘাত করে আল রাজি। এতে সোহানের হাত কেটে যায়। পরে হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত দুজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়।

এ ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী নিরাপত্তা চেয়ে ও শাস্তির দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে আহত দুই শিক্ষার্থী বলেন, আলরাজীর সঙ্গে মোকাররম হোসেনের টাকার লেনদেন ছিলো। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই লেনদেন নিয়ে তাদের দুইজনের মধ্যে বাগবিতন্ডা হয়। দুজনই মারমুখী আচরণ করতে থাকে। পরে হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর হস্তক্ষেপে তখনকার মতো বিষয়টি মিটমাট হয়। এই ঘটনার জেরেই দুপুরে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আল রাজি বলেন, ‘এসব মিথ্যা কথা। মোকাররম আমার কাছে টাকা ধার নিয়েছিলো। সকালে ওর কাছে টাকা ফেরত চাইতে গেলে সে টাকা দিতে টালবাহানা শুরু করে। পরে জোরাজুরি করলে সে আমাকে মেরে হল থেকে বের করে দেয়ার ‍হুমকি দেয়।’

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, ‘ছুরিকাঘাতের ঘটনা ব্যক্তিগত রেষারেষির ফলে ঘটেছে। তারা ছাত্রলীগের কর্মী কিনা সে ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তারা ছাত্রলীগের কর্মী হলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রাধ্যক্ষ শফি মুহম্মদ তারেক জানান, এটি ‘ক্রিমিনাল অফেন্স’। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সেই সাথে থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আহত দুই শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ব্যয় হল প্রশাসন বহন করবে।

প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, ‘অভিযোগপত্র পেয়েছি। যেহেতু এটা হলের অভ্যন্তরীণ বিষয় তাই হল প্রশাসনকেও একটি প্রতিবেদন দিতে বলেছি। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’