‘তোমরা ঘরে ফিরে যাও’ নিহত মীম ও আবদুল করিমের বাবা-মা

প্রকাশিতঃ 3:15 am | August 03, 2018 |

  • প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের সংশ্লিষ্ট সবাই চান নিরাপদ সড়ক
  • বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের অবস্থানকে যৌক্তিক বিবেচনা করে দ্রুত কাজ করছে সরকার
  • শিক্ষার্থীরা চায় দাবি পূরণের দৃশ্যমান অগ্রগতি

বিভাষ বাড়ৈ ॥ নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে নিয়েই দ্রুত কাজ করছে সরকার। নিহত দুই শিক্ষার্থী মীম ও আবদুল করিমের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা সহায়তা ছাড়াও শিক্ষার্থীদের দাবিকে যৌক্তিক বিবেচনা করে সবার জন্য সরকার নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার পক্ষে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের সংশ্লিষ্ট সবাই চান একটি নিরাপদ সড়ক। আগামী সোমবার মন্ত্রিসভায় নিরাপদ সড়ক আইন উত্থাপন করা হবে। মাত্রা অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনার দায়ীদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান থাকছে এই আইনে। সরকারের পক্ষে ইতিবাচক ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনকারীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে। বাসচাপায় নিহত মীম ও আবদুল করিমের বাবা-মা আন্দোলনকারীদের ঘরে ফিরে যেতে অনুরোধ করে বলেছেন, ‘তোমরা ঘরে ফিরে যাও’। শিক্ষার্থীরা চায় দাবি পূরণের দৃশ্যমান অগ্রগতি।

এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবিকে সকলে যৌক্তিক বললেও ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে সঙ্কট বাধানোর পাঁয়তারা শুরু করেছে তৃতীয় পক্ষ। তারা চায়না শিক্ষার্থীদের দাবি শান্তিপূর্ণ থাকুক। শিক্ষার্থীদের উস্কানি দিতে তারা খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পর্কেও মিথ্যা ও বিকৃত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। পুরনো ও অন্য দেশের ছবি বিকৃত করে শিক্ষার্থীদের উস্কানি দেয়া হচ্ছে নাশকতার জন্য। কিছু নিউজ পোর্টালে প্রধানমন্ত্রীর নামে বিকৃত, মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং।

আন্দোলনের পঞ্চম দিন বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অবস্থা নেয়া শিক্ষার্থীরা বলেছে, সড়ক ব্যবস্থায় লাগামহীন নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সরকার লিখিতভাবে পদক্ষেপ নিলে আমরা রাজপথ ছেড়ে দেব। তারা বলেছে, ‘সড়কে কেউ আইন মেনে চলে না, যারা সিগন্যাল বোঝে না, তারাও বাসের চালক। লাইসেন্স নেই কিন্তু চালকরা সড়কে গাড়ি চালান, গাড়ির ফিটনেসও নেই। চালকদের বেপরোয়া গতি আর অদক্ষতার কারণে আমাদের ভাই-বোন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে। যেখানে সেখানে প্রাইভেটকার রেখে সড়ক দখল করে রাখা হয়। তা আমরা আর মানব না। আমরা চাই নিরাপদ সড়ক, যেখানে সবাই আইন মেনে চলবে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার লিখিতভাবে পদক্ষেপ নিলে আমরা রাজপথ ছেড়ে দেব। আমরা চাই সরকারের দৃশ্যমান পদক্ষেপ। মুখের কথায় আর কাজ হবে না।

রাজধানীর প্রতিটি সড়কসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে এখন একই বক্তব্য। চাই নিরাপদ সড়ক। বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টা। ধানম-ির ৩২ নম্বর সড়কের পাশে রিক্সাসহ সকল পরিবহন নিয়ন্ত্রণ করছিল নিউ মডেল ডিগ্রী কলেজের একদল ছাত্রী। সঙ্গে ছিল স্কুলের শিক্ষার্থীরাও। তারা প্রতিটি রিক্সা চালককে বলছে, আপনারা একটি লাইনে যাবেন। অন্যথায় রিক্সা বন্ধ। প্রাইভেট রিক্সা ও পাবলিক বাসের চালককে বলছেন, আপনার লাইসেন্স কই। প্রত্যেকে একটি লাইনে যাবেন। কথা না শুনলে গড়ি চলবে না। লাইসেন্স না থাকলে গাড়ি বন্ধ। ছাত্রীরা কয়েকজন সাংবাদিককে দেখে বলে উঠল, ‘ভাই দেখেন আমরা যা করছি তা কোন অন্যায় কিনা? আমরা পারি ওদের (চালক) একটি লাইনে আনতে সরকার কেন পারে না? যত কঠিনই হোক এবার সরকারকে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে হবে।’

আসাদ গেটের কাছে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ডেফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা যানবাহনের লাইসেন্স চেক করছিল। যাদের ড্রাইভিং লাসেন্স নেই তাদের আটকে মোরে থাকা ট্রাফিক পুলিশের কাছে নিয়ে যাচ্ছে। সেখানে তাদের মামলা দেয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থী পলাশ জানায়, আমরা যানবাহনের ড্রাইভিং লাইসেন্স তল্লাশি করছি, যাদের আছে তাদের ছেড়ে দেয়া হচ্ছে, আর যাদের নেই, তাদের ট্রাফিং পুলিশের কাছে নিয়ে যাচ্ছি।

উত্তরায় হাউস বিল্ডিংয়ের সামনের সড়কে বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীদের পক্ষে মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থীরা কথা বলছিল। তাদের একজন সৌরব। তার অভিযোগ সড়কে কেউ আইন মেনে চলে না, যারা সিগন্যাল বোঝে না, তারাও বাসের চালক। লাইসেন্স নেই কিন্তু চালকরা সড়কে গাড়ি চালায়, গাড়ির ফিটনেসও নেই। এটা আর হবে না।

আরেক শিক্ষার্থী হাসান বলছিল, চালকদের বেপরোয়া গতি আর অদক্ষতার কারণে আমাদের ভাই-বোন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে। তা আমরা মানব না। আমরা চাই নিরাপদ সড়ক, যেখানে সবাই আইন মেনে চলবে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার লিখিতভাবে পদক্ষেপ নিলে আমরা রাজপথ ছেড়ে দেব। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কোন চালক সড়কে গাড়ি বের করতে পারবে না। ফিটনেস না থাকলে সড়কে গাড়ি চলবে না। কোন পরিবহন ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া সড়কে না বের হবে না। এটা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।

ফার্মগেটে আটকা পড়েছিলেন বহু পথচারী। তাদেরই একজন সরোয়ার বলছিলেন, আমার অফিস মিরপুরে। প্রতিদিন যাতায়ত করতে হয় বাসে। কিন্তু মিরপুরের বাসগুলো এত বিশৃঙ্খলভাবে এত বেপরোয়া গতিতে চলে, তা দেখে বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরাও আঁতকে ওঠে। এগুলো ঠিক করা দরকার। এখন শিক্ষার্থীরা চাপ দিয়েছে সরকারের উচিত এখন কাজগুলো দ্রুত করে ফেলা।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সম্মান জানিয়ে হেঁটে গেলেন রাদওয়ান মুজিব ॥ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে রিকশায় চড়ে গন্তব্যে গেলেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র এবং শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি। বৃহস্পতিবার ববির রিক্সায় চড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা হয়। জানা যায়, মাঝে মধ্যেই নিজের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারী গাড়ি ব্যবহার না করে রিক্সায় করে যাতায়াত করেন তিনি। এটি তার জন্য নতুন কিছু নয়। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা শার্ট এবং কালো প্যান্ট পরা রাদওয়ান সিদ্দিক একটি রিক্সায় চড়ে যাচ্ছেন। এরপর রিক্সা থেকে নেমে হেঁটে চলে যান তিনি।

ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ছাত্রদের নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলনের প্রতি সম্মান জানিয়ে নিজের গাড়ির এবং ড্রাইভারের লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও রিক্সায় চড়ে নিজের গন্তব্যে গেলেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি। অবশ্য এ ঘটনা তার জন্য নতুন কিছু নয়। তিনি প্রায়ই এভাবে রিক্সায় চড়ে চলাফেরা করে থাকেন।

শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে সরকার ॥ বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, তাদের সব দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবরোধ তুলে নিয়ে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি অনুরোধ করব আমাদের সবার প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা তাদের অবরোধ তুলে নিবেন। এবং তারা আবারও ক্লাসে ফিরে আসবেন, পড়াশোনায় মনোযোগী হবে। আমরা জোর গলায় বলছি দোষীরা সর্বোচ্চ শাস্তি যাতে পায় যে জন্য সরকার ব্যবস্থা নিবে। আর তারা বিভিন্নভাবে আমাদের কাছে যে দাবিগুলো পৌঁছেছে সেগুলো সবই মেনে নিয়েছি, সেগুলো সবই যৌক্তিক। পর্যায়ক্রমে আমরা সব ব্যবস্থা নেব। কোন ক্রমেই ফিটনেসবিহীন, লাইসেন্সবিহীন এবং রুট-পারমিটবিহীন কোন গাড়ি আমরা আমাদের শহরে চলতে দেব না।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বাসচাপায় নিহত হওয়ার মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে। সাধারণত সড়ক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত কোন মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার কথা নয়। কিন্তু এ নির্দিষ্ট মামলাটি কেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর কথা বলছেন আইনমন্ত্রী। আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে একটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন আছে।

আমরা যে মামলাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি- সেটা মার্ডার কেস, রেপ কেস বা অন্যান্য যে কোন মামলা …. সেটাকে জন-গুরুত্বপূর্ণ মনে করলে আমরা কিন্তু সেটাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে লিখে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল বলে একটি আদালত আছে সে আদালতে পাঠিয়ে এটা দ্রুত বিচার করতে পারি।

পঞ্চম দিনেও রাস্তায় নেমে আসা শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বৃহস্পতিবার ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতি এই আহ্বান জানান।

মনিরুল ইসলাম বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করছি তারা যেন কারও উস্কানিতে কান না দেয়। সবাইকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে, নিজ নিজ ঘরে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করছি। কোমলমতি শিশুরা যেন কোন অপপ্রচারে কান না দেয়, বিভ্রান্ত না হয়। আমরা তাদের সব দাবি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে তাদের দাবি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যে সব দাবি মেনে নেয়ার কথা বলেছেন। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য যেসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ তৎপর রয়েছে। সড়কে যানবাহন কয়েকবার করে চেকিং করা হচ্ছে।

মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, সড়ক ব্যবস্থাপনায় আগে অনিয়ম ছিল। আমরা সেসব অনিয়ম অনেক দূর করেছি। উল্টোপথে চলা অনেক প্রভাবশালীর গাড়িও ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। ফুটপাতে গাড়ি চালানো বন্ধ করা হয়েছে। আমাদের আন্তরিকতা থাকা সত্ত্বেও নাগরিকদের অসেচতনতার কারণে পুরোপুরি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা বিলম্বিত হচ্ছে। পাশাপাশি অভিভাককদেরও অনুরোধ করব, আপনারা আপনাদের সন্তানদের ঘরে নিয়ে যান। সঙ্গে শিক্ষকদেরও অনুরোধ করবও তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য। আর পরিবহনে যে সমস্যা তা তো রাতারাতি সমাধান হবে না। আমরা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।

মনিররুল বলেন, যে নিয়মগুলো তাৎক্ষণিকভাবে মেনে নেয়ার যোগ্য সেগুলো এখনি ইম্পলিমেন্ট করবে সরকার। আগামী মন্ত্রিসভায় নিরাপদ সড়ক আইন উত্থাপন করা হবে। আমরা যতদূর জেনেছি, মাত্রা অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনার দায়ীদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান থাকছে এই আইনে।

উস্কানিদাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, কোমলমতি শিশুদের আন্দোলনে নামার পর একটি স্বার্থানেষী মহল এর সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করছে। এই আন্দোলনের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কিছু গ্রুপ বা পেজ খুলে উস্কানি ছড়ানো হচ্ছে। এই সুযোগসন্ধানীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তারা ধরা পড়লে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। তারপরও তাদের বলব, এসব বন্ধ করুন। আপনাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। শিশু-কিশোরদের আন্দোলনে আমাদের সহানুভূতি রয়েছে। কিন্তু গত কয়েকদিনের আন্দোলনে ৩০০ গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। এছাড়াও ৮টি গাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে। পুলিশের ৫টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। যারা গাড়ি ভাঙচুর করছেন তারা ছাত্র হতে পারে না। এ কারণে তাদের থেকে শিক্ষার্থীদের সাবধান থাকার অনুরোধ করব।

সক্রিয় কুচক্রী মহল, সতর্কতা ॥ কিছু নিউজ পোর্টালে প্রধানমন্ত্রীর নামে বিকৃত, মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে একটি ‘কুচক্রী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে বিকৃতি, মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করছে উল্লেখ করে তাতে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বান জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিছু কুচক্রী মহল বিভিন্ন নিউজ পোর্টালের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে বিভিন্ন বিকৃত, মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করছে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব বানোয়াট সংবাদ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা প্রচার করা হচ্ছে। এসব সংবাদের কোন ভিত্তি নেই উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব অপসংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঢাবিতে ছাত্রলীগের মৌন মিছল ॥ নিরাপদ সড়কের দাবিতে মৌন মিছল করেছে ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মধুর ক্যান্টিন থেকে এই মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মধুর ক্যান্টিনে এসে শেষ হয়। মিছিল শেষে সভাপতি সঞ্জিত দাস বলেন, ছাত্রদের আন্দোলনের সঙ্গে আমরা একাত্মতা প্রকাশ করছি। এ আন্দোলনের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সহমর্মিতা রয়েছে। অতি দ্রুত নিয়মের মধ্য দিয়ে এ সমস্যার সমাধান হবে আশা করছি। সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাদ্দাম হোসাইন বলেন, এদেশে সড়ক দুর্ঘটনা চলমান প্রক্রিয়ার মতো। আন্দোলনরত ছাত্ররা যে দাবি জানিয়েছে তা যৌক্তিক। সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ প্রশমনে দেশের সংশ্লিষ্ট যে আইন আছে সেটির দ্রুত সংস্কার করে বাস্তবায়ন করা হবে এটিই সরকারের কাছে আমাদের দাবি।

দিয়া-করিমের পরিবারের উদাত্ত আহবান, ‘তোমরা ঘরে ফিরে যাও’ ॥ যাদের মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীরা লাগাতার আন্দোলনে রাজধানী অচল করে রেখেছ, সেই দিয়া খানম মীম আর আবদুল করিমের বাবা-মা আন্দোলনকারীদের ঘরে ফিরে যেতে অনুরোধ করেছেন। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের মাধ্যমে এই অনুরোধ জানান দিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর ফকির ও করিমের মা মহিমা বেগম। জাহাঙ্গীর সাংবাদিকদের বলেন, সবার কাছে আমার অনুরোধ, যার যার সন্তান, আমরা অভিভাবকরা বুঝিয়ে ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যাই। আমরা একটা শক্ত বিচার পাব, আমরা আশা করি। এটা প্রধানমন্ত্রীর নিজের মুখের কথা। করিমের মা মহিমা বলেন, সবাই আমার সন্তানের জন্য রাস্তায় নেমেছ। সবই হয়ে গেছে। এখন তোমরা যে যার ঘরে উঠে যাও। তোমাদের সবার কাছে অনুরোধ, তোমরা ঘরে ফিরে যাও।

জাহাঙ্গীর সাংবাদিকদের বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বুধবার তাদের বাসায় গিয়েছিলেন সমবেদনা জানাতে। তিনিও দোষীদের বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এটা কেউ চাপিয়ে রাখতে পারবে না। এর বিচার হবেই। বিচার হলে আমরা দেশের মানুষ সবাই শান্তি পাব। সন্তানহারা এই বাবা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের সান্ত¡না দিয়েছেন। আমরা খুব কৃতজ্ঞ। এ সময় মহিমা বেগমের পাশে থাকা করিমের বোন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের সান্ত¦না দিয়েছেন। আমরা স্যাটিসফাই হয়েছি। তোমরাও স্যাটিসফাই হও। আমরা দোয়া করি, তোমরাও দোয়া কর তোমাদের বন্ধুদের জন্য। সবাই ঘরে ফিরে যাও।