বহিষ্কার হচ্ছেন সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির

প্রকাশিতঃ 11:41 am | January 29, 2019 | ১১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরাম থেকে নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ও মোকাব্বির খান শপথ নিতে আগ্রহী বলে জানা গেছে। শপথের বিষয়ে প্রথমদিকে না করলেও পরবর্তীতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন দুজনেই।

নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্যের ইচ্ছা পরও সোমবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও গণফোরাম জানায় শপথ না নেয়ার আগের সিদ্ধান্তই বহাল আছে। এদিকে দলের বাইরে গিয়ে শপথ গ্রহণ করলে বহিষ্কার হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে গণফোরামের একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে গণফোরাম থেকে নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য (এমপি) শপথ গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বাজছে ফের অনৈক্যের সুর।

এর আগে একই ইস্যুতে এই জোটে দেখা দিয়েছিল টানাপোড়েন। পরবর্তী সময়ে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এবার ঐক্যফ্রন্টের দুই এমপি নিজেরাই সরাসরি শপথ নেয়ার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। তাদের এই দৃঢ় অবস্থানে ফ্রন্টের ঐক্য নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা শঙ্কা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মাত্র আটটি আসনে জয়লাভ করে। বিএনপির ছয়জন এমপি শপথ নেবেন না বলে দলীয় ফোরামে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

কিন্তু গণফোরাম থেকে নির্বাচিত সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খান শপথ গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করলেও ভিন্ন কথা বলছেন ফ্রন্টটির শীর্ষ নেতারা। তাদের মতে, শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত এখনও বহাল আছে।

শুধু তা-ই নয়, সোমবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও ঐক্যফ্রন্টের প্রধান সমন্বয়কারী মোস্তাফা মহসীন মন্টু জানান, গণফোরাম তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো কোনো নির্বাচিত সংসদ সদস্য সংসদে যোগদান করছেন এ ধরনের সংবাদ অসত্য ও ভিত্তিহীন। সংসদে যোগ দেয়ার বিষয়ে গণফোরামে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

গণমাধ্যমকে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য না দেয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন তথা জনগণের ভোটের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য সুদৃঢ় ও অটুটু আছে।

ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের মতে, যে নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, সেখানে শপথ নিয়ে সংসদে যাওয়া মানেই আওয়ামী লীগের একতরফা এ নির্বাচনকে মেনে নেয়া।

ফ্রন্টের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এ দুজন শপথ নিলে ফ্রন্টের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এমন পরিস্থিতিতে শিগগিরই ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক ডাকা হতে পারে।

প্রসঙ্গত, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসনে বিজয়ী হন। আর মোকাব্বির খান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে প্রার্থী হলেও গণফোরামের প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে সিলেট-২ আসনে বিজয়ী হন।