স্বামীর মনোনয়ন চাইছে স্ত্রী, লিখেছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি…

প্রকাশিতঃ 3:05 am | November 14, 2018 | ৩,৩৩০

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগ ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারা সুলতানা ময়মনসিংহ ১- আসন (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে স্বামী হালুয়াঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ খানের জন্য এ আসনে নৌকার মনোনয়ন দিয়ে জনগনের সেবায় নিয়জিত থাকার জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে খোলা চিঠি লিখেছেন। 

মঙ্গলবার ১৪ নভেম্বর রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আনোয়ারা সুলতানা  একজন আদর্শবান, সৎ, পরোপকারী, নিষ্ঠাবান, কোমলমন এর অধিকারী এবং মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের তুখোর ছাত্রনেতা বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বর্তমানে হালুয়াঘাট উপজেলার সফল চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ খানকে নৌকা মার্কায় মনোনীত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে খোলা চিঠি পোস্ট করেছেন।

প্রেম-ভালোবাসা নিয়ে কবিরা লিখেছেন বিস্তর কবিতা। সেসব কবিতা নিয়ে হয়েছে গান। কেউ কেউ ভালোবাসার মানে খুঁজেছেন কবিতাতেই। এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে খোলা চিঠি লিখে (স্বামী-স্ত্রী) তাঁদের ভালোবাসার অনুভূতির কথা জানিয়েছেন। ময়মনসিংহ ১- আসন (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে নৌকা মার্কায় মনোনীত করার দাবি জানিয়েছেন। লিখেছেন.. 

মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নিকট খোলা চিঠি 
*******************************

একজন আদর্শবান, সৎ, পরোপকারী, নিষ্ঠাবান, কোমলমন এর অধিকারী এবং মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের তুখোর ছাত্রনেতা বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বর্তমানে হালুয়াঘাট উপজেলার সফল চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ খান।

যাকে আমার চেনা এবং জানা সেই ছেলেবেলা থেকেই। যার আদর্শ, সততা, নিষ্ঠাকে পুঁজি করেই আমার পথ চলা। যাদের অনুসরণ করে নিজেকে গড়েছি এবং পথ চলছি আজও তাদের মাঝে একজন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর অন্য দু’জন আমার জন্মদাতা পিতা মৃত আব্দুল মালেক এবং স্বামী ফারুক আহমেদ খান। আজ ফারুক আহমেদ খান সম্পর্কে কিছু কথা বলতে বা লিখতে খুব প্রয়োজন বোধ করছি পারিপার্শ্বিক এবং রাজনৈতিক পরিবেশ মাথায় নিয়ে।

একজন আদর্শবান, সৎ, পরোপকারী, নিষ্ঠাবান, কোমলমন এর অধিকারী এবং মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের তুখোর ছাত্রনেতা বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বর্তমানে হালুয়াঘাট উপজেলার সফল চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ খান।

যাকে আমার চেনা এবং জানা সেই ছেলেবেলা থেকেই। যার আদর্শ, সততা, নিষ্ঠাকে পুঁজি করেই আমার পথ চলা। যাদের অনুসরণ করে নিজেকে গড়েছি এবং পথ চলছি আজও তাদের মাঝে একজন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর অন্য দু’জন আমার জন্মদাতা পিতা মৃত আব্দুল মালেক এবং স্বামী ফারুক আহমেদ খান। আজ ফারুক আহমেদ খান সম্পর্কে কিছু কথা বলতে বা লিখতে খুব প্রয়োজন বোধ করছি পারিপার্শ্বিক এবং রাজনৈতিক পরিবেশ মাথায় নিয়ে।

একজন সৎ এবং আদর্শবান, সহজ-সরল গ্রামের কৃষক প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক আমজাদ হোসেন খান এবং রওশনারা-র ঘরে প্রথম সন্তান হয়ে জন্ম নেন ১৯৬০ সালের ১৭ই জানুয়ারী ধুরাইল,
হালুয়াঘাট, ময়মনসিংহ জেলায় ফারুক আহমেদ খান। ছয় মেয়ে আর তিন ছেলেকে নিয়ে আমজাদ হোসেন খানের টানাপোড়নের সংসারে ফারুক আহমেদ খান লেখাপড়া চালিয়ে যান গ্রামের মানুষের সেবা করার পাশাপাশি। স্কুলের সেরা ছাত্র হিসেবেও বেশ সুনাম অর্জন করেন তিনি। পরিবারের প্রথম সন্তান এবং দাদা-দাদী, নানা-নানীর বড় নাতী হিসেবেও বেশ আদর-যত্নেই বড় হন ফারুক আহমেদ খান।

১৯৭৩ সালে তিনি বাহির শিমুল উচ্চ বিদ্যালয়, হালুয়াঘাট শাখায় ছাত্রলীগের সভাপতি পদ নিয়ে রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেন।

এরপর ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ময়মনসিংহ জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য,১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক, ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি, ১৯৮২ সালে আনন্দ মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদে বিপুল ভোটে ভিপি পদে নির্বাচিত হয়ে সকলের ভালোবাসা ও সহযোগিতায় দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

তারপর ১৯৮৬ সালে আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদে বহাল হন। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, ময়মনসিংহ জেলা শাখার তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, ময়মনসিংহ জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, হালুয়াঘাট উপজেলার সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে যোগ্যতার সাথে রাজনীতিতে পথ চলেন জনগণের ভালোবাসা নিয়ে। 
১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, ময়মনসিংহ জেলা শাখার কার্যকরী কমিটির সদস্য পদে আসীন হন। ২০০৪ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, ময়মনসিংহ জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন যোগ্যতা ও দক্ষতার সাথে। এরই মাঝে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনও করেন। 
২০১৪ সালে হালুয়াঘাটের জনগণের ভালোবাসার ভোটে তৃণমূলে নির্বাচিত হয়ে উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিপুল ভোটে জয়লাভে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে জনগণকে নিয়ে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন আজ অবধি। 
২০১৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, ময়মনসিংহ জেলা শাখার সহ-সভাপতি পদ নিয়ে ফারুক আহমেদ খান যোগ্যতায়, দক্ষতায় এগিয়ে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরী গণমানুষের ভালোবাসায় সিক্ত, ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষে পথ চলছেন রাজনীতির অঙ্গনে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ফারুক আহমেদ খানের পরিবারের ১১জন সদস্য মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ফারুক আহমেদ খানের নানা মোহাম্মদ আলী মণ্ডলের বাড়ি রামনগর, হালুয়াঘাট ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি। দুই মামা ছিলেন ১১নং সেক্টরের কোম্পানি কমান্ডার। একজন আলী হোসেন, পিতা মোহাম্মদ আলী মণ্ডল আর অন্য মামা আব্দুল হক। ১১ নং সেক্টর কোম্পানির যতোগুলো ডালু সাব সেক্টর ছিলো তার কমান্ডার ছিলেন আলী হোসেন। আরও একটি সেক্টরের কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন আব্দুল হক এবং এই সেক্টরের সেকেন্ড কমান্ডার ছিলেন আরেক মামা আব্দুর রশিদ। ফারুক আহমেদ খানের দু’জন চাচাও ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা।

দেশ স্বাধীন হবার পর থেকে আজ অবধি এই পরিবারের সদস্যরা কেউ কখনো মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া সরকারী কোনো সুযোগ সুবিধা বা অনুদান নেননি। ফারুক আহমেদ খানের নানা মোহাম্মদ আলী মণ্ডল তার নাতী একদিন বড় মাপের রাজনীতিবিদ হবে, এমপি হবে, মণ্ত্রী হবে এই স্বপ্ন দেখতে দেখতেই নানা-নানী, দাদা-দাদী চলে গেলেন না ফেরার দেশে। ফারুক আহমেদ খানের পরিবারের এগারজন মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে এখন শুধু এক খালু মুক্তিযোদ্ধা হাছেন আলী বেঁচে আছেন হয়তো ভাগ্নে ফারুক আহমেদ খানের এমপি হবার সেই সুদিনটি দেখার অপেক্ষায়।

সততা, নিষ্ঠা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা আর বিশ্বাসভাজন দেখে তার সাথে ঘর বাঁধতে আগ্রহী হই ১৯৮৬ সালে, তবে তার দেয়া শর্ত মেনে নিয়ে। শর্তগুলি ছিলো—বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করতে হবে, রাজনীতিতে নিষেধ করা যাবেনা, ছাত্র রাজনীতিতে আসতে হবে, রাজনীতিতে আস্থা রাখতে হবে, হাতে হাত রেখে একসাথে গাছতলায় না খেয়েও থাকতে হবে। যেহেতু, আমার বাবাও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতিতে বিশ্বাসী ও আস্থাশীল ছিলেন আর বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নজরুল ইসলাম চাচা এবং মাননীয় ধর্মমন্ত্রী প্রিন্সিপাল মতিউর রহমানসহ আরও অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের খুব ঘনিষ্ঠজন ছিলেন বাবা তাই ছোটবেলা থেকেই রাজনীতিকে খুব কাছ থেকেই দেখেছি, অনুভব করেছি বলেই শর্তগুলো মেনে নিতে খুব একটা কষ্ট হয়নি। ১৯৮৪ সালে মুমিনুন্নেছা সরকারী মহিলা
কলেজে পড়াকালীন আমি ছাত্রলীগের সদস্য পদ নিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করি এবং আজ অবধি ময়মনসিংহ জেলার মহিলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ নিয়ে বহাল আছি। বিয়ের পর বাড়ি ভাড়ার জন্যে বাড়ি বাড়ি ঘুরেছি রাজনৈতিক নেতা বলে কেউ বাড়ি ভাড়াও দেয়নি।

ফারুক আহমেদ খান হঠাৎ করেই ১৯৮৬ সালের ১৫ ই মে আমাকে ফোন করে জানালেন আগামী পরশু ১৭ই মে আমরা বিয়ে করবো। কেনো এমন ঝটিকা সিদ্ধান্ত তা তখন জানতে না পারলেও পরে জেনেছি তার এই ১৭ তারিখ বিয়ের দিন ধার্য্য করার কারণ। ১৭ ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, ১৭ ই এপ্রিল মুজিব নগর গঠন, ১৭ ই মে বঙ্গবন্ধু কন্যা ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, ১৭ ই জানুয়ারী ফারুক আহমেদ খানের জন্মদিন তাই এই ১৭ তারিখটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই বিয়ের তারিখ ১৭ ই মে ঠিক করেছিলেন তিনি।

আওয়ামীলীগের ধারক, বাহক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে লালন করে ফারুক আহমেদ খান আজও পথ চলছেন আর এই পথ চলতে গিয়ে কোন চাকুরীজীবন বেছে নেননি। নিজেকে স্বাধীন রেখে ব্যবসা করে গেছেন রাজনীতির পাশাপাশি। যার ফলে শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল সার্টিফিকেটগুলোও বোর্ডেই পরে রইলো জীবনের অধিকাংশ সময়। উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচন করতে গিয়ে প্রথমবারের মতো তোলা হলো সার্টিফিকেটগুলো ৩০ বছর পর।

আমি স্কুল জীবনে ফারুক খানের পড়ালেখা, হাতের লেখা, প্রতিদিনের ডাইরী লেখা, বই পড়ার অভ্যাস এবং রাজনীতির দক্ষতা দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি, নিজেকে সেই ভাবেই গড়তে চেয়েছি। দেখেছি স্কুলমাষ্টার বাবার কষ্টে উপার্জিত পাঠানো পরীক্ষা ফিসের টাকা নিজের পরীক্ষা বাদ দিয়ে অন্য ছাত্রের পরীক্ষার ফিস দিতে ফারুক আহমেদ খানকে। দেখেছি নিজের খাবারের টাকায় অন্যজনকে খাইয়ে নিজে ৩/৪ দিন উপোস থাকতে। লংক্লথ কাপড়ের পায়জামা-পান্জাবী আর একটি পেন্ট-সার্ট দিয়ে পায়ে স্পন্সের সেন্ডেল পরে ছাত্র রাজনীতি জীবন কাটাতে। বিএনপি আর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনরত তুখোর ছাত্রনেতা ফারুক আহমেদ খানকে দেখেছি ময়মনসিংহ শহরের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পকেটে টাকা না থাকায় পায়ে হেঁটে রাজনীতির প্রয়োজনে কর্মীদের নিয়ে ছুটে যেতে। আনন্দ মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ হোস্টেলে এক বিছানায় তিনজন শেয়ার করে ঘুমিয়েছেন, একজনের খাবার তিনজনে ভাগ করে খেয়েছেন। পুলিশের নির্যাতনে বাড়ি ছাড়া হয়েছেন তিনিবারংবার।

সংসার জীবনে দেখেছি ঘরের মানুষকে অভুক্ত রেখে চাল-ডাল অনাহারী অন্য সংসারে দিয়ে আসতে। দেখেছি ছেলের দুধ কেনার টাকা নিয়ে নিজের এলাকার অসুস্থ শিশুর বাবার হাতে তুলে দিতে। নিজের সংসারে উদাসীন থাকলেও পরের উপকারে ঝাঁপিয়ে পরতে দেখেছি এবং দেখছি এই মানুষটির ভিতর আরও এক কোমল শিশুকে যে পরের জন্যে কাঁদে,পরের ভালো ছাড়া ক্ষতি কখনো করতে দেখিনি।

যেই মানুষটি রাজনীতি আর মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো ছাড়া পথ চলতে পারেননা সেই মানুষটি তার হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া উপজেলাবাসীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তৃণমূলে দু দু’বার জয়লাভ করেও সংসদ নির্বাচনে নমিনেশন পাননি আজ অবধি। নমিনেশন না পেলেও তিনি কখনও স্বতন্ত্র প্রার্থী হবার চিন্তাও করেননি নেত্রীর সিদ্ধান্তের বাইরে। হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া উপজেলার মানুষের প্রাণের দাবী, হৃদয়ের আকুতি ফারুক আহমেদ খানের এবারের একাদশ সংসদীয় নির্বাচনের নমিনেশন।

বঙ্গবন্ধু কন্যাদ্বয় শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা ‘৭৫-এর ঘৃণ্যতম ঘটনার দীর্ঘ দিন পর যখন দেশে ফিরলেন তার কয়েক বছর পর আমার জীবনে এসেছিল এক ভয়ানক রাত। ১৯৮৭ সাল আমি তখন প্রথম সন্তানের মা হতে চলেছি, আট মাসের অন্তঃস্বত্বা। ফারুক আহমেদ খান ক’দিন হলো ঢাকায়।
এরই মাঝে আমাকে দেখাশোনা আর সাহায্য করার জন্যে বাবা-মা ৯/১০ বছরের একটি মেয়েকে আমার কাছে রেখে যান।

কয়েকদিন পর ফারুক খান বাসায় ফিরে এলে মেয়েটিকে আমি হাসিনা বলে ডাকতেই আমার উপর তিনি খুব ক্ষিপ্ত হয়ে বললেন, ওঠো। আমি উঠে বসতেই তিনি আমাকে বললেন, তুমি কি নামে মেয়েকে ডাকলে? আমি বললাম, হাসিনা। তিনি পারেন তো আমার গালে এক চড় বসান আরকি। আমি ভয়ে ভয়ে জিগ্গাসা করলাম, কেনো? তিনি রেগে গিয়ে বললেন, তুমি জানোনা আমার নেত্রীর নাম? তাহলে তুমি কোন সাহসে ঐ মেয়েকে হাসিনা বলে ডাকলে? আমি বললাম ওর নাম হাসিনা। তারপর আর কোনো কথার সুযোগ না দিয়ে টেনে হিচরে বাসার গেটের বাইরে বের করে দিয়ে বললেন, তুমি আর আমার বাসায় থাকতে পারবেনা, তোমার বাবার বাসায় যাও। সে রাতে তার সাথে যোগ দিলো আমার দেবরও। মাকে বের করে গেইটে তালা দিয়ে দিলেন।

রাত তখন দু’টো। এতো রাতে বাবাও সব শুনে আমাকে বাসায় ঢুকতে দিবেন না জানি, তাই সিঁড়িতে বসে কাঁদতে লাগলাম। কিছুক্ষণ পর একটি কাগজ দিলেন ফারুক খান গেটের ফাঁক দিয়ে। বললেন, আমি সিগনেচার দিয়ে দিয়েছি তোমার সিগনেচার দিয়ে নিও। কাগজটি পড়ে দেখি ডিভোর্সের কাগজ।
আমি আরও কাঁদতে শুরু করলাম। রাত সোয়া তিনটার দিকে মানু’দা ( দূর্গাপুরের মানু মজুমদার নেত্রীর খুব কাছের একজন ) এলেন হল থেকে ছবি দেখে। তিনি তখন আমাদের সাথেই থাকতেন। তিনি সব শুনে গেইট খুলিয়ে আমাকে নিয়ে ঘরে ঢুকলেন এবং সব সুরাহা করে মেয়েটির নাম হাসিনা পাল্টে হাসনা রাখা হলো। আমার অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্যে ফারুক খানের কাছে ক্ষমা চাইলাম। এই হচ্ছেন ফারুক আহমেদ খান। বঙ্গবন্ধু আর নেত্রীর ব্যাপারে কারো সাথেই কোনো আপোষ করতে রাজী নন তিনি। নেতার আদর্শ কে বুকে ধারণ করে জননেত্রীর হাতকে আরও শক্তিশালী করার লড়াই করে যাচ্ছেন আজও ফারুক আহমেদ খান।

ছেলে একদিন এমপি হবে, মণ্ত্রী হবে এই স্বপ্ন চোখে, বুকে লালন করে অপেক্ষা করতে করতেই সাধারণ কৃষক প্রাইমারী স্কুল শিক্ষক ফারুক আহমেদ খানের বাবা আমজাদ হোসেন খানও চলে গেলেন অতৃপ্ত মন নিয়ে না ফেরার দেশে। এখন ৮০ বছরের বৃদ্ধা মা খোদার দরবারে জায়নামাজে বসে প্রার্থনা করেন দিনরাত সেই ছেলের জন্যে যেই ছেলে, বঙ্গবন্ধু এবং তার কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ভালোবেসে, শ্রদ্ধা রেখে রাজনীতি করতে গিয়ে দেশ এবং দেশের মানুষের পাশে থাকতে গিয়ে মা-বাবা, ভাই-বোন আর স্ত্রী-সন্তানদের প্রতি নজর দিতেই সময় করতে পারেননি। ছেলে তার একদিন এমপি, মন্ত্রী হবে- মানুষের সেবা করবে, দেশ আর দশের মুখ উজ্জ্বল করবে।

ময়মনসিংহ ১- আসন হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া উপজেলার জনগণ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফারুক আহমেদ খানের নমিনেশনের অপেক্ষায় তাকিয়ে আছে প্রাণপ্রিয় নেত্রীর দিকে।
আমরা আশা করি, যেই মানুষটি শুধু নিজের বা নিজের পরিবারের কথা না ভেবে দেশ আর দেশের মানুষের কথা ভাবলো, হালুয়াঘাট এবং ধোবাউড়ার মানুষের কথা ভাবলো এবার তাকে নেত্রী অবশ্যই তার মূল্যায়ন করে যথার্থ জায়গায় ঠাঁই দিবেন।

ভালো থাকুন আমাদের বিশ্বনেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা, ভালো থাকুক বাংলার মানুষ, জয় হোক সঠিক জায়গায় সঠিক মানুষের।

জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

নিবেদক
আনোয়ারা সুলতানা
সাংগঠনিক সম্পাদক
বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগ
ময়মনসিংহ জেলা শাখা
ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ